আহলে বাইত ও মাহদীইজম

আহলে বাইত ও মাহদীইজম
যেমনিভাবে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অদৃশ্যকালীন পরিস্থিতি, প্রতিক্ষাকারীদের পুরষ্কার সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে৷ আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হচেছ এই হাদীসসমূহ শিয়া-সুন্নি উভয় মাযহাবের গ্রন্থেই বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম মাহ্দী সম্পর্কিত বহু হাদীসই মুতাওয়াতির৷
এখানে আমরা ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কিত চৌদ্দ মাসুম (আ.) হতে বর্ণিত হাদীসসমূহকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি:
১-    রাসূলে আকরাম (সাঃ) হযরত মাহ্‌দী (আঃ)-এর অবশ্য আবির্ভাবের ব্যাপারে বলেছেন: যদি দুনিয়ার বয়স শেষ হতে আর মাত্র একদিন বাকী থাকে, আল্লাহ্‌ আমাদের বংশের থেকে একজনকে পাঠাবেন এই দুনিয়াতে আর্দশ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, যতই অন্যায় ও অত্যাচার দুনিয়াকে গ্রাস করে ফেলুক মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ১, পৃঃ- ৯৯।
২-    নবী (সাঃ) বলেছেন: ততদিন পর্যন্ত ক্বিয়ামত আসবে না যতদিন পর্যন্ত না আমার আহ্‌লে বাইতের মধ্য থেকে একজন এই দুনিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যার নাম আমার নামের অনুরূপ (মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৭৬ ও ৪৩০। ) ।
৩-    দ্বীনের নবী (সাঃ) বলেছেন: যেমন আলী আমার পরে উম্মাতের ইমাম তদ্রুপ ক্বায়েম মুনতাযার (তাঁর সন্তানদের মধ্যে থেকে) যখন আবির্ভাব করবে জমিনকে ন্যায় ও আদর্শে ভরে দেবে, এই দুনিয়া যতই জুলুম ও অত্যাচারে ভরে থাকুক না কেন। তাঁর কসম যিনি আমাকে সত্য পৌছে দেয়া ও ভয় প্রদর্শনের জন্য পাঠিয়েছেন। সন্দেহাত্বীতভাবে তারাই চিরস্থায়ী বা অমর যারা কিনা তাঁর অদৃশ্য থাকা সত্বেও তাঁর উপর ঈমান রাখে।
যাবির উঠে দাড়িয়ে বলল: ইয়া রাসূল আল্লাহ্‌, আপনার সন্তানদের মধ্যে ক্বায়েম অদৃশ্যে থাকবে?
বললেন: হ্যাঁ আমার আল্লাহ্‌র কসম। মু’মিনরা পরীক্ষিত আর কাফেররা ধবংস হয়ে যাবে। ওহে যাবির এই নির্দেশ আল্লাহ্‌রই একটি নির্দেশ। এই রহস্যপূর্ণ বিষয়টি তার গুপ্ত বিষয়াবলীর মধ্যে একটি। যা তার বান্দাদের কাছে গোপন রেখেছেন, এটার ব্যাপারে সন্দেহ করা থেকে দুরে থাক কেননা আল্লাহ্‌র নির্দেশের ব্যাপারে সন্দেহ করা কাফেরী কাজ (মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৭৬,৪৩০।)
৪-    উম্মে সালামা বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ মাহ্‌দী মওউদের কথা স্মরণ করে বলেছিলেন: হ্যাঁ সে সত্য এবং সে বনি ফাতিমার থেকে আসবে (মুসতাদরাক আলাসসাহীহাইন, খন্ড- ৪, পৃঃ- ৫৫৪।
৫-    সালমান ফারসী বলেন: একদিন নবীজির কাছে পৌছে দেখলাম, হুসাইন বিন আলীকে নিজের উরুর উপর বসিয়ে তার চোখগুলোতে ও ঠোটে চুমা দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন: তুমি সাইয়্যেদ, সাইয়্যেদের সন্তান ও সাইয়্যেদের ভাই, তুমি ইমাম, ইমামের সন্তান ও ইমামের ভাই, তুমি আল্লাহ্‌র হুজ্জাত, হুজ্জাতে খোদার সন্তান ও হুজ্জাতে খোদার ভাই, তুমি নয়জন হুজ্জাতে খোদার পিতা তাদের মধ্যে নবমজন হচ্ছে ক্বায়েমে মুনতাযার (ইয়ুনাবিউল মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৯২।)।
৬-    ইমাম রেযা (আঃ) বলেছেন: হাসান বিন আলী আসকারীর স্থলাভিষিক্ত উপযুক্ত সন্তানই সাহেবুজ্জামান (জামানার মালিক) আর সেই হচ্ছে মাহ্‌দী মওউদ (ইয়ুনাবিউল মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৯১।)।
৭-    মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাঃ) বলেছেন: তোমাদেরকে মাহ্‌দীর সুসংবাদ দিচ্ছি, সে আমার উম্মতের মধ্যেই অভিষিক্ত হবে। যখন আমার উম্মত মতপার্থক্যের ও পদস্থখলনের মধ্যে থাকবে। সুতরাং জমিনকে পরিপূর্ণভাবে ন্যায় ও আদর্শে ভরে দেবে। তা যতই জুলুম ও অত্যাচারে ভরে থাকুক না কেন। আসমান ও জামিনের সকলেই তাঁর উপর সন্তুষ্ট হবে (মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ২, পৃঃ- ৩৭।)...
৮-    ইমাম রেযা (আঃ) বলেছেন: যে লোকের সাধুতা থাকেনা তাঁর কোন দ্বীন নেই। তোমাদের মধ্যে সেই আল্লাহ্‌র কাছে অধিক প্রিয় যার পরহেজগারীতা সকলের উর্দ্ধে। পরে আরও বলেন: আমার বংশধরের থেকে চতুর্থ সন্তান যে এক সম্বান্ত কানিযের সন্তান আল্লাহ্‌ তাঁর মাধ্যমে জমিনকে যে কোন ধরনের জুলুম ও অন্যায় থেকে মুক্তি দিবেন এবং সে ঐ ব্যক্তি যার ভূমিষ্টের ব্যাপারে মানুষের সন্দেহ থাকবে। সে অদৃশ্যে থাকবে। যখন আবির্ভূত হবেন তখন জমিন আল্লাহ্‌র নূরে নূরানীত হবে। আর মানুষের মাঝে ন্যায়ের মাপকাঠি স্থির করবে। যার কারণে কেউ অন্যের বিরুদ্ধে অত্যাচার করতে পারবে না (ইয়ুনাবিউল মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৪৮।...
৯-    আমিরুল মুমিনিন আলী (আঃ) বলেছেন: আল্লাহ্‌ রাববুল আলামিন একটি দলকে আনবেন যারা তাকে ভালবাসে এবং তিনিও তাদেরকে ভালবাসেন। তাদের মধ্যে সেই তাঁর প্রতিনিধিত্বের পর্যায়ে পৌছাবে যে পর্দার আড়ালে গোপনীয়। আর সে হচ্ছে মাহ্‌দী মওউদ (ইমাম মাহ্‌দী) ... জমিনকে পরিপূর্ণভাবে আদর্শ ও ন্যায়ে ভরে দেবে এবং এ কাজে করতে তাঁর কোন প্রকার সমস্যা বা অসুবিধা হবে না। শিশু বয়সেই সে তাঁর বাবা-মার কাছ থেকে দুরে থাকবে ... মুসলমানদের অঞ্চলগুলোকে নিরাপত্তার সাথে জয় করবে। সময় তাঁর জন্যে প্রস্তুত ও পরিচ্ছন্ন হবে। তাঁর মুখের কথায় যুক্তি থাকবে এবং নবীন প্রবীণ সকলেই তাকে অনুসরণ করে চলবে। ঠিক যে সময় তাঁর ইমামত পরিপূর্ণতায় পৌছাবে ও তাঁর খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে যারা কবরের মধ্যে শুয়ে আছে তাদেরকে আল্লাহ্‌ তায়ালা পুনরায় জীবিত করবেন। তাদের সকাল হবে যখন তারা তাদের কবরের মধ্যে থাকবে না। এই পৃথিবী ইমাম মাহদীর পরশ পেয়ে তাঁর হারিয়ে যাওয়া রূপ বা সৌন্দর্যকে পুনরায় ফিরে পাবে। চারিদিক ফুলে-ফলে, শস্য-শ্যামলে, নদ-নদী নির্মল পানির কলতানে বয়ে যাবে, পাখিরা কিচির-মিচির শব্দে নেচে গেয়ে ঘরে ফিরবে। মানুষের অন্তরগুলি অন্যায়, পাপাচার, শত্রুতা, ফিতনা, থেকে দুরে সরে গিয়ে একে অপরের প্রতি ভালবাসায়, ভালকাজে লিপ্ত হবে। আর তাদের সবকিছুই তখন বরকতময় হয়ে উঠবে। এর বেশী কিছু বলার প্রয়োজন দেখছিনা শুধুমাত্র ঐ দিনের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইলো (ইউনাবিউল মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৬৭।)।
১০-   ইমাম সাদিক (আঃ) বলেছেন: মানুষ তাদের ইমামকে হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু সে হজ্ব মৌসুমে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে দেখেন। কিন্তু মানুষ তাকে দেখতে পায় না (উসুলে কাফি, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৩৭।)।
১১-   আসবাগ বিন নাবাতাহ্‌ বলেন: আমিরুল মুমিনিন আলী (আঃ)-এর সমীপে উপস্থিত হয়ে তাকে চিন্তায় মগ্ন থাকতে দেখলাম তিনি আঙ্গুল মোবারক দিয়ে মাটিতে টোকা দিচ্ছিলেন। বললাম: আপনাকে কেন চিন্তিত লাগছে, আপনি কী দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা রাখেন ?
বললেন: না, আল্লাহ্‌ সাক্ষী কখনও এই দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা আমার ছিল না বা এখনও নেই। এক জাতকের বিষয়ে চিন্তা করছি যে আমার বংশ থেকে আসবে এবং আমার সন্তানদের মধ্যে একাদ্বশতম ব্যক্তি সে। তার নাম “মাহ্‌দী”। সে দুনিয়াকে ন্যায় ও আদর্শে ভরে দেবে। তা যতই জুলুম ও অত্যাচারে ডুবে থাকুক না কেন। সে অদৃশ্য অবস্থায় থাকবে যার কারণে একদল ধবংস প্রাপ্ত হবে এবং অন্য একদল হবে হেদায়ত প্রাপ্ত (উসুলে কাফি, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৩৮।)...
১২-   ইমাম সাদিক (আঃ) বলেছেন: যদি তোমাদের কাছে খবর পৌছায় যে জামানার ইমাম অদৃশ্যে আছেন তবে তাঁর এই অদৃশ্য হওয়ার খবরটিকে অস্বীকার করবে না (উসুলে কাফি, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৩৮।)
১৩-   তিনি আরও বলেছেন: কায়েম (ইমাম মাহ্‌দী) দুইটি অদৃশ্যতে থাকবে যার একটি সল্প মেয়াদী এবং অন্যটি দীর্ঘ মেয়াদী। সল্প মেয়াদী অদৃশ্যতে তাঁর প্রকৃত অনুসারী ছাড়া তাকে কেউ দেখতে পাবে না এবং দীর্ঘ মেয়াদী অদৃশ্যতে তাঁর অতি নিকটের লোকেরা ছাড়া অন্য কেউ তাঁর ব্যাপারে জানতে পারবে না (উসুলে কাফি, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৪০।)।
১৪-   তিনি আরও বলেছেন: কায়েম (ইমাম মাহ্‌দী) এমন সময় কিয়াম করবে যখন তার প্রতি কেউ চুক্তিতে আবদ্ধ নয় বা কেউ তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেনি (উসুলে কাফি, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৪২।)।
১৫-   নবী করিম (সঃ) বলেছেন: কায়েম (ইমাম মাহ্‌দী) আমার সন্তান, তার নাম ও ডাম নাম আমার নাম ও ডাম নামের অনুরূপ। দেখতেও অবিকল আমার মত। শরীরের গড়ন ও গঠন আমার মতই। তার সুন্নতই হচ্ছে আমার সুন্নত। মানুষদেরকে আমার দ্বীন ও শরিয়তের এবং আল্লাহ্‌র কিতাবের প্রতি দাওয়াত দেবে। যারা তাকে অনুসরণ করবে তারা আমাকে অনুসরণ করলো এবং যারা তাঁর সাথে বিরোধীতা করবে তারা আমার সাথে বিরোধীতা করলো। আর যারা তাঁর অদৃশ্য থাকাকে অস্বীকার করবে তারা আমাকে অস্বীকার করলো (আয়ালামুল ওয়ারী, পৃঃ- ৪২৫।)।
১৬-   ইমাম যয়নুল আবেদ্বীন (আঃ) বলেছেন: আমাদের ক্বায়েমের (ইমাম মাহ্‌দী) সাথে বিভিন্ন নবীদের মিল রয়েছে। যেমন মিল রয়েছে নূহ, ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা, আইয়ুব ও হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাঃ)-এর সাথে। নূহ নবীর সাথে বয়সের দিক দিয়ে। ইব্রাহীম নবীর সাথে গোপনে ভুমিষ্ট হওয়া ও মানুষের থেকে দুরে থাকা। মুসা নবীর সাথে অদৃশ্য থাকা ও জীবন নাশের ভয়ের ব্যাপারে। ঈসা নবীর সাথে মানুষ যেভাবে তার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছিল সে দিক দিয়ে। আইয়ুব নবীর সাথে যেমন তার দুঃখ-বেদনা উদ্বেগ লাঘব হয়ে কার্যোদ্ধারের পথ সুগম হয়েছিল। নবী করিম (সাঃ)-এর সাথে তার মত তলোয়ার হাতে ক্বিয়াম করা (কামালুদ্দিন, পৃঃ- ৩২২, ৩১ তম অধ্যায়, হাদিস- ৩।)।
১৭-   ইমাম সাদিক (আঃ) বলেছেন: এরূপ যে শেষ জামানার ইমাম অদৃশ্যে থাকবে। ঐ সময় আল্লাহ্‌র বান্দারা অবশ্যই যেন তাকওয়া (পরহিযগারীতার) উপর দৃঢ় থাকে ও আল্লাহ্‌র দ্বীনকে আকড়ে থাকে (কামালুদ্দিন, পৃঃ- ৩২২, ৩৩ তম অধ্যায়, হাদিস- ২৫। ) ।
১৮-   তিনি আরও বলেছেন: মানুষের সামনে এমন এক সময় আসবে যখন তাদের ইমাম তাদের চোখের অন্তরালে (অদৃশ্যে) থাকবে ।
যুরারে বলেন: তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ঐ সময় মানুষের দায়িত্ব বা করণীয় কী?
বললেন: যা কিছু তাদেরকে আগেই বলা হয়েছে বা তাদের কাছে আগেই পৌছেছে (অর্থাৎ দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস ও তার দেয়া আদেশ-নির্দেশের) তা জামানার ইমাম আবির্ভাব করা পর্যন্ত মেনে চলা (কামালুদ্দিন, পৃঃ- ৩৫০, ৩৩ তম অধ্যায়, হাদীস- ৪৪।)।
১৯-   তিনি আরও বলেছেন: এই ঘটনাটি (ইমামের আবির্ভাব ও তার ক্বিয়াম করা) এই সময় সংঘটিত হবে। যখন সব ধরনের মানুষ বা সংঘ মানুষের উপর শাসনকার্য পরিচালনা করার কাজ শেষ করবে। যাতে করে কেউ বলতে না পারে যে আমাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে আমরাও ন্যায় ও আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতাম বা তার ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করতাম। অবশেষে ক্বায়েম (ইমাম মাহ্‌দী) ন্যায় ও আদর্শের পক্ষে ক্বিয়াম করবেন (ইসবাতুল হুদাত, খন্ড- ৭, পৃঃ- ৪২৭-৪২৮।)।
২০- রাসূল (সা.) বলেছেন: “তার সৌভাগ্য, যে মাহ্দীকে দেখবে৷ তারও সৌভাগ্য, যে মাহদীকে ভালবাসবে এবং সেও সৌভাগ্যবান, যে তাঁর ইমামতকে গ্রহণ করবে" (বিহারুল আনওয়ার খণ্ড- ৫২, পৃ.-৩০৯)৷
২১- ইমাম আলী (আ.) বলেছেন: “আবির্ভাবের প্রতিক্ষায় থেকো এবং কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে বিমুখ হয়ো না৷ এটা অতি সত্য যে, আবির্ভাবের প্রতিক্ষায় থাকা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ইবাদত" (বিহারুল আনওয়ার খণ্ড- ৫২, পৃ.-৩০৯)৷
২২- হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা (আ.)-এর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: “অতঃপর বিশ্ববাসীর প্রতি রহমতের জন্য আওলীগণের পর্যায়ক্রমকে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর সন্তানের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করবে৷ যার মধ্যে হযরত মুসার পূর্ণতা, হযরত ঈসার সৌন্দর্য এবং হযরত আইয়ুবের ধৈর্য থাকবে (কামালুদ্ দ্বীন খণ্ড-১, বাব ২৮, হাদীস ১, পৃ.-৫৬৯)৷
২৩- ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) বলেছেন: “আল্লাহপাক শেষ যামানায় একজন মহাপুরুষকে প্রেরণ করবেন এবং তাঁকে ফেরেশ্তাদের মাধ্যমে সাহায্য করবেন এবং তাঁর সাথীদেরকেও রক্ষা করবেন৷ তাঁকে পৃথিবীর সবকিছুর উপর প্রাধান্য দেয়া হবে৷ তিনি দুনিয়াকে এমভাবে ন্যায়নীতি ও সাম্যে পরিপূর্ণ করবেন যেমনিভাবে পৃথিবী জুলুম অত্যাচারে ভরে গিয়েছিল৷ সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে, তাঁকে দেখবে এবং তাঁর নির্দেশ পালন করবে (ইহতিজাজা খণ্ড-২, পৃ.-৭০)৷
২৪- ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: “আল্লাহ হযরত মাহ্দীর মাধ্যমে ধরিত্রীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন৷ তাঁর মাধ্যমেই সত্য দ্বীনকে সকল দ্বীনের উপর প্রাধান্য দান করবেন যদিও মুশরিকরা তা পছন্দ করে না৷ তিনি অদৃশ্যে থাকবেন অনেকেই দ্বীনচ্যুত হবে আবার অনেকেই দ্বীনের প্রতি প্রতিষ্ঠিত থাকবে৷ যে ব্যক্তি অদৃশ্যকালীন অবস্থায় বিভিন্ন অত্যাচার ও মিথ্যাচারে ধৈর্য ধারণ করবে সে রাসূল (সা.)-এর সাথে থেকে মুশরিকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে (কামালুদ্ দ্বীন খণ্ড- ১, বাব ৩০, হাদীস ৩, পৃষ্ঠা ৫৮৫)৷
২৫- ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেছেন: আমাদের কায়েমের অদৃশ্যকালীন সময়ে যারা আমাদের প্রতি বিশ্বাসে অনড় থাকবে আল্লাহ তাআলা তাকে বদর এবং ওহুদের যুদ্ধে শাহাদত প্রাপ্তদের মত সহস্র শহীদের পুরস্কার দান করবেন (কামালুদ্ দ্বীন খণ্ড- ১, বাব ৩১, হাদীস পৃষ্ঠা ৫৯২)৷
২৬- ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন: “মানুষের জন্য এমন সময় আসবে যখন তাদের ইমাম অদৃশ্যে থাকবে এবং সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে, ঐ সময়ে আমাদের বেলায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে (কামালুদ্ দ্বীন খণ্ড- ১, বাব ৩২, হাদীস-১৫, পৃষ্ঠা ৬০২)৷
২৭- ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: “আমাদের কায়েমের জন্য দৃটি অদৃশ্য রয়েছে একটি স্বল্পমেয়াদী অপরটি দীর্ঘমেয়াদী (গাইবাতে নোমানী বাব ১০, হাদীস ৫, পৃষ্ঠা ১৭৬)৷
২৮- ইমাম কাযিম (আ.) বলেছেন: “ইমাম মাহদী (আ.) দৃষ্টির অন্তরালে থাকবেন কিন্তু মুমিনরা তাঁকে কখনোই ভুলবেন না (গাইবাতে নোমানী বাব ৩৪, হাদীস ৫৬, পৃষ্ঠা ৫৭)৷
২৯- ইমাম মুসা রেযা (আ.) বলেছেন: “ইমাম মাহদী (আ.) যখন আবির্ভূত হবেন পৃথিবী তাঁর জ্যোতিতে আলোকিত হয়ে যাবে এবং তিনি ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবেন৷ সুতরাং তখন কেউই কারো প্রতি অত্যাচার করবে না (গাইবাতে নোমানী বাব ৩৫, হাদীস ৫, পৃষ্ঠা ৬০)৷
৩০- ইমাম তাকি আল জাওয়াদ (আ.) বলেছেন: “আমাদের কায়েম তিনি যার অদৃশকালীন অবস্থায় তাঁর প্রতিক্ষায় থাকতে হবে এবং আবির্ভাবের পর তাঁর নির্দেশ পালন করতে হবে (গাইবাতে নোমানী বাব ৩৬, হাদীস ১, পৃষ্ঠা ৭০)৷
৩১- ইমাম হাদী আন্ নাকি (আ.) বলেছেন: “আমার পর ইমাম হচেছ আমার পুত্র হাসান এবং তার পর তার পুত্র মাহ্দী ইমাম হবে এবং তিনি দুনিয়াকে এমভাবে ন্যায়নীতি ও সাম্যে পরিপূর্ণ করবেন যেমনিভাবে পৃথিবী জুলুম অত্যাচারে ভরে গিয়েছিল (গাইবাতে নোমানী বাব ৩৭, হাদীস ১০, পৃষ্ঠা ৭৯)৷
৩২- ইমাম হাসান আসকারী (আ.) বলেছেন: “আল্লাহর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে, তিনি আমার মৃত্যুর পূর্বেই আমাকে আমার উত্তরাধিকারী দান করেছেন৷ সে সকল দিক থেকেই রাসূল (সা.)-এর অনুরূপ (গাইবাতে নোমানী বাব ৩৭, হাদীস ৫, পৃষ্ঠা ১৭৬)৷

মন্তব্য

একটি মন্তব্য

* একটি তারকা চিহ্নিত ফিল্ড অবশ্যই মান থাকা আবশ্যক।