ইমাম মাহদী (আ.)-এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল কিছু বিষয়

ইমাম মাহদী (আ.)-এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল কিছু বিষয়
১- শিয়া মাযহাবে ইমাম মাহদী (আ.)
ইমামের জন্ম গোপনে হওয়ার কারণে এধারণার অবকাশ ছিল যে শিয়ারা শেষ ইমামকে চিনতে ভুল করবে এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে৷ ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর দায়িত্ব ছিল যে নিজের সন্তানকে বিশিষ্ট শিয়া ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মাঝে পরিচয় করাবেন৷ তারা আবার এ সংবাদ আহলে বাইতের অপর অনুসারীদের কাছে পৌঁছে দিবেন আর এভাবেই ইমামের পরিচয় ঘটবে এবং ইমাম (আ.) সকল বিপদ থেকে মুক্ত থাকবেন৷
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর বিশেষ অনুসারী এবং বিশিষ্ট শিয়া জনাব আহমাদ বিন ইসহাক বলেন:
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর কাছে গিয়ে মনে মনে তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারী সম্পর্কে জানার ইচছা পোষণ করলাম, কিন্তু কিছু জানতে চাওয়ার পূর্বেই তিনি বললেন: হে আহমাদ! আল্লাহপাক হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর থেকে কখনোই পৃথিবীকে হুজ্জাত বিহীন রাখেন নি এবং কিয়ামত পর্যন্ত কখনোই খালি রাখবেন না৷ আর আল্লাহর হুজ্জাতের মাধ্যমেই পৃথিবীর মানুষের উপর থেকে বালা-মুছিবত দূর হয়৷ তাঁর অস্তিত্বের বরকতেই বৃষ্টি বর্ষণ হয় এবং ফসল ফলে৷
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান! আপনার পরবর্তী ইমাম এবং উত্তরাধিকারী কে? ইমাম সাথে সাথে ঘরের ভিতর প্রবেশ করলেন এবং তিন বছরের একটি অতি সুন্দর ও চাঁদের ন্যায় পবিত্র শিশুকে নিয়ে বেরিয়ে এসে বললেন: হে আহমাদ বিন ইসহাক! যদি আল্লাহ ও তাঁর হুজ্জাতের নিকট প্রিয়ভাজন না হতে তাহলে আমার এ পূত্র তোমাকে দেখাতাম না৷ তাঁর নাম ও কুনিয়া রাসূল (সা.)-এর নাম ও কুনিয়ার অনুরূপ৷ পৃথিবী যেভাবে অন্যায়-অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়েছিল সে তেমনিভাবে পৃথিবীকে ন্যায়-নীতিতে পরিপ‚র্ণ করবে৷
আমি বললাম: এমন কোন চিহ্ন কি আছে যা দেখে আমি নিশ্চিত হতে পারি? এমন সময় পবিত্র শিশুটি বললেন:
انا بقية الله فی ارضه والمنتقم من اعدائه ...
আমিই হলাম পৃথিবীতে আল্লাহর শেষ গচিছত সম্পদ এবং আমি আল্লাহর দুশমনদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব৷ হে আহমাদ বিন ইসহাক নিজ চোখে দেখার পর আর কোন চিহ্নের অপেক্ষায় থেক না৷
আহমাদ বিন ইসহাক বলেন: এ কথা শোনার পর অতি আনন্দের সাথে ইমাম (আ.)-এর বাড়ী থেকে চলে আসলাম (কামালুদ্দিন খণ্ড- ২, বাব ৩৮, হাদীস ১, পৃ.-৮০)৷
অনুরূপভাবে মুহাম্মদ বিন উসমান ও আরও কয়েক জন বিশিষ্ট শিয়া ব্যক্তিত্ব বর্ণনা করেছেন:
আমরা শিয়া মাযহাবের চল্লিশজন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর কাছে একত্রিত হই৷ তিনি আমাদেরকে তাঁর পবিত্র সন্তানকে দেখিয়ে বললেন, "আমার পর এই তোমাদের ইমাম ও আমার উত্তরাধিকারী৷ তাঁর নির্দেশ মেনে চলবে এবং দ্বীন থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড় না তাহলে ধবংস হয়ে যাবে৷ আজকের পর থেকে তাঁকে আর দেখতে পাবে না (তিনি ইমাম মাহদীর দ্বিতীয় নায়েব )৷
একটি সুন্নত হচেছ শিশুদের জন্য আকিকা করা এবং ওলিমা দেয়া৷ দুম্বা অথবা গরু জবাই করে মানুষকে খাওয়ানো৷ এর মাধ্যমে শিশুর বালা-মুছিবত দূর হয় এবং আয়ূ দীর্ঘ হয়৷ ইমাম হাসান আসকারী (আ.) কয়েকবার তাঁর পবিত্র সন্তানের জন্য আকিকা করেছিলেন৷ এভাবে তিনি রাসূল (সা.)-এর সুন্নতকে পালন করেন এবং শিয়া মাযহাবকে দ্বাদশ ইমাম সম্পর্কে জ্ঞাত করেন৷ 
২- মোজেযা এবং কেরামত
 ইমাম মাহদী (আ.)-এর জীবনীর অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর জন্মের পর থেকে অদৃশ্যের পূর্ব পর্যন্ত৷ এসময়ে তার মাধ্যমে অনেক মোজেযা ও কেরামত সম্পাদিত হয়েছে৷ তবে ইমাম (আ.)-এর জীবনের এ দিকটির প্রতি বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয় নি৷
আমরা এখানে একটি উদাহরণ বর্ণনার মাধ্যমে তা তুলে ধরতে চেষ্টা করব:
আহমাদ ইবনে ইব্রাহীম নিশাপুরী বলেন:
যখন আমর বিন আউফ (অত্যাচারি শাসক যে শিয়া মাযহাব অনুসারীদের হত্যা করতে খুব পছন্দ করত) আমাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল৷ আমার সমস্ত অস্তিত্ব আতঙ্কে শিউরে উঠল৷ অতঃপর সবার সাথে বিদায় নিয়ে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর বাড়িতে বিদায় নিতে গেলাম এবং ভেবে রেখেছিলাম যে তার পর পালাব৷ ইমাম (আ.)-এর বাড়িতে গিযে তাঁর পাশে একটি বাচচা ছেলে বসা দেখলাম যার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত জ্বল জ্বল করছিল৷ তাঁর ঐ নুরানী চেহারা দেখে আমি এত বেশী হতবাক হলাম যে, আমার সব কিছু প্রায় এলোমেলো হয়ে গেল৷
এমন সময় তিনি আমাকে বললেন: "হে ইব্রাহীম, পালাবার কোন প্রয়োজন নেই৷ খুব শীঘ্রই আল্লাহ তোমাকে তার অনিষ্ট হতে পরিত্রাণ দিবেন৷"
আমি আরও বেশী হতবাক হয়ে ইমাম আসকারী (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, "আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গ হোক এই ছেলে কে যিনি আমার মনের খবর বলছেন?" ইমাম (আ.) বললেন: "সে আমার সন্তান এবং আমার উত্তরাধিকারী৷"
ইব্রাহীম বলেন, "আল্লাহর করুনার প্রতি আশা ও দ্বাদশ ইমাম (আ.)-এর কথার প্রতি বিশ্বাস আমার ছিল৷ কিছু দিন পর আমার চাচা সংবাদ দিলেন যে আমর বিন আউফকে হত্যা করা হয়েছে৷"
৩- বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দান
ইমামত নামক আকাশের শেষ উজ্বল নক্ষত্র শিশু বয়সেই শিয়া মাযহাব অনুসারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতেন এবং তাদেরকে সন্তুষ্ট করতেন৷ উদাহরণস্বরূপ সংক্ষেপে একটি রেওয়ায়াত বর্ণনা করছি:
শিয়া মাযহাবের বিশিষ্ট আলেম সাদ ইবনে আব্দুল্লাহ কুম্মী, ইমামের উকিল আহমাদ ইবনে ইসহাক কুম্মীকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে ইমাম আসকারী (আ.)-এর কাছে গিয়েছিলেন৷ তিনি ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন:
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর কাছে প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে তিনি তাঁর সন্তানের দিকে ইশারা করে বললেন: আমার চোখের জ্যোতির কাছে প্রশ্ন কর৷ তখন ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: যা ইচছা প্রশ্ন করতে পার৷ বললাম, "کهيعص" এর উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন: এই অক্ষরগুলো গায়েবি সংবাদের অন্তর্ভুক্ত৷ আল্লাহ্ তাআলা তাঁর বান্দা (নবী) যাকারিয়াকে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন অতঃপর মুহাম্মদ (সা.)-কেও সে সংবাদ দিয়েছেন৷ ঘটনা হল যে হযরত যাকারিয়া (আ.) আল্লাহর কাছে পাক পঞ্জাতনের নাম জানতে চাইলেন৷ আল্লাহ তাআলা হযরত জীবরাঈল (আ.)- কে সে নামগুলো শিক্ষা দিলেন৷ হযরত যাকারিয়া যখন মুহাম্মদ (সা.), আলী (আ.), ফাতিমা (আ.) ও হাসান (আ.)-এর নাম উচচারণ করলেন তাঁর সকল কষ্ট ও সমস্যার অবসান হয়ে গেল৷ কিন্তু যখন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর নাম উচচারণ করলেন তখন কষ্টে তাঁর গলা আটকে আসতে লাগল৷ তিনি আল্লাহর কাছে বললেন: হে আল্লাহ আমি যখন প্রথম চার জনের নাম উচচারণ করি তখন আমার সকল কষ্ট দূর হয়ে যায় এবং মন আনন্দে ভরে যায়৷ কিন্তু যখন হুসাইন (আ.)-এর নাম উচচারণ করি তখন আমার দুচোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে৷ আল্লাহ তাঁকে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ঘটনা সম্পর্কে অবগত করলেন এবং বললেন: "کهيعص" হচেছ এই ঘটনার সংকেত৷ "کاف" হচেছ কারবালার সংকেত৷ "هاء" হচেছ হালাকাত বা ধবংসের সংকেত৷ "ياء" হচেছ পাপিষ্ট ইয়াযিদের নামের সংকেত৷ "عين" হচেছ আতাশ তথা পিপাসার সংকেত৷ "صاد" হচেছ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সবর ও ধৈর্যের সংকেত৷
বললাম: কেন মানুষ নিজেরাই তাদের ইমামকে নির্বাচন করতে পারবে না?
ইমাম বললেন: তুমি মুসলেহ (মুক্তিদাতা) ইমামের কথা বলছ নাকি মোফসেদ (পথভ্রষ্ট) ইমামের কথা বলছ? বললাম: মুসলেহ ইমামের কথা বলছি যিনি সমাজকে সংষ্কার করবেন৷ ইমাম বললেন: যেহেতু কেউই কারো মনের খবর রাখে না যে, সে গঠনমূলক চিন্তা করে নাকি ধবংসাত্মক, সুতরাং মানুষের পক্ষ থেকে নির্বাচিত ব্যক্তি মোফসেদও তো হতে পারে? বললাম: হ্যাঁ, হতে পারে৷ বললেন: কারণ, এটাই (কামালুদ্দিন, খণ্ড- ২, বাব ৪৩, হাদীস ২১, পৃ.-১৯০)৷
ইমাম এই হাদীসে আরও অনেক শর্ত বা কারণ বর্ণনা করেছেন তবে সংক্ষিপ্ততার জন্য তা র্বণনা করা থেকে বিরত হলাম৷
৪- উপহার গ্রহণ করা
শিয়া মাযহাবের আরও একটি রিতি হচেছ যে, তারা ইমামের জন্য বিভিন্ন উপঢৌকন এবং খুমস প্রেরণ করে থাকে৷ ইমাম (আ.) সেগুলোকে গ্রহণ করে সমাজের নিম্নবিত্তদের প্রয়োজন মেটাতেন৷
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর উকিল ইবনে ইসহাক বলেন: শিয়া মাযহাবের উপঢৌকন ইমাম আসকারী (আ.)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে গেলাম৷ সেখানে তাঁর চাঁদের ন্যায় পুত্র তাঁর পাশে বসে ছিলেন৷ ইমাম আসকারী (আ.) তাঁর সন্তানকে বললেন: হে আমার পুত্র তোমার বন্ধু ও অনুসারীদের আনিত উপঢৌকনগুলো খোল৷ শিশু পুত্র বললেন: হে আমার মাওলা এই পবিত্র হাত দিয়ে হালাল ও হারাম মিশ্রিত নাপাক বস্তু ছোয়া কি ঠিক হবে? 
ইমাম হাসান আসকারী (আ.) বললেন: "হে ইসহাক! থলের মধ্যে যা আছে তা বের কর৷ আমার পুত্র তার মধ্য থেকে হারাম এবং হালালগুলোকে পৃথক করবে৷ আমি একটি থলে বের করলাম৷ শিশু পুত্র বললেন: এই থলেটা কোম শহরের অমুক লোকের এবং তার মধ্যে ৬২ আশরাফী আছে৷ তার মধ্যে ৪৫ আশরাফী তার পিতার দেয়া জমি বিক্রয়ের, ১৪ আশরাফী তার নয়টি জামা বিক্রয়ের এবং বাকি তিনটি আশরাফী তার দোকান ভাড়ার৷    
ইমাম হাসান আসকারী (আ.) বললেন: হে আমার পুত্র! ঠিক বলেছ৷ এখন এই ব্যক্তিকে বলে দাও যে, এর মধ্যে কোনটি হারাম? শিশু ইমাম মনযোগ সহকারে হারাম জিনিসগুলোকে পৃথক করলেন এবং তার কারণও উল্লেখ করলেন৷
অতঃপর আর একটি থলে বের করলাম৷ ওই থলেটি যে ব্যক্তির তিনি তার নাম ও ঠিকানা বলার পর বললেন: "তার মধ্যে ৫০ আশরাফী আছে যা আমাদের ছোঁয়া ঠিক নয়৷ তারপর ওই অর্থ অপবিত্র হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন৷
অতঃপর ইমাম হাসান আসকারী (আ.) বললেন: হে আমার পুত্র তুমি সঠিক বলেছ৷ তারপর আহমাদ বিন ইসহাককে বললেন: "সবগুলোকে তাদের প্রত্যেককে ফিরিয়ে দাও কেননা আমাদের তার কোন প্রয়োজন নেই" (কামালুদ্দিন, খণ্ড- ২, বাব ৪৩, হাদীস ২১, পৃ.-১৯০)৷   
৫- পিতার জানাযার নামাযে
ইমাম মাহদী (আ.)-এর গুপ্ত অবস্থার সময়ে এবং স্বল্পমেয়াদী অদৃশ্য শুরু হওয়ার পূর্বে সর্বশেষ যে কার্য সম্পাদন করেছিলেন তা হল পিতার জানাযার নামায৷
একাদশ ইমামের খাদেম আবুল আদইয়ান এ সম্পর্কে বলেন:
ইমাম হাসান আসকারী (আ.) জীবনের শেষ সময়ের দিকে আমাকে কিছু চিঠি দিয়ে বললেন: "এগুলোকে মাদায়েনে নিয়ে যাও৷ পনের দিন পর ফিরে এসে আমার বাড়িতে রোনা-জারি শুনতে পাবে এবং আমার মৃতদেহ গোসলের স্থানে দেখবে৷" আমি বললাম: হে আমার মাওলা এমনটি হলে আপনার উত্তরাধিকারী তথা পরবর্তী ইমাম কে হবেন? ইমাম বললেন: "যে তোমার কাছে আমার চিঠির উত্তর সম্পর্কে জানতে চাইবে তিনিই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" বললাম: আরও কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন৷ ইমাম বললেন: "যে আমার জানাযার নামাজ পড়াবেন তিনিই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" বললাম: অরও কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন৷ ইমাম বললেন: "যে এই থলেতে যা আছে সে সম্পর্কে খবর দিবে সেই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" কিন্তু ইমাম (আ.)-এর গাম্ভির্য দেখে প্রশ্ন করতে সাহস পেলাম না৷
চিঠিসমূহকে মাদায়েনে নিয়ে গেলাম উত্তর নিয়ে ইমামের কথামত পনের দিনের মাথায় সার্মেরাতে ফিরে ইমাম (আ.)-এর বাড়িতে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম এবং ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর মৃতদেহকে গোসলের স্থানে দেখতে পেলাম৷ তখন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর ভাই জাফরকে দেখলাম যে ইমাম (আ.)-এর বাড়িতে দাড়িয়ে আছে এবং কেউ কেউ তাকে শোক বার্তা জানাচেছ এবং ইমাম হিসাবে তাকে মোবারকবাদ জানাচেছ৷ আমি মনে মনে বললাম: এই লোক যদি ইমাম হয় তাহলে ইমামত ধবংস হয়ে যাবে৷ কেননা তাকে আমি চিনতাম সে মদ্য পান করত এবং গানবাজনা করত৷ যেহেতু ইমাম (আ.)-এর বলে যাওয়া আলামতের খোজে ছিলাম তাই আমিও তার কাছে গেলাম এবং অন্যদের মত তাকে শোকবার্তা জানালাম ও মোবারকবাদ জানালাম৷ কিন্তু সে আমাকে চিঠির জবাব সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করল না৷ তখন আকিদ [ইমাম হাসান আসকারী (আ.)]-এর আর এক খাদেম জাফরকে বলল: হে আমার নেতা আপনার ভ্রাতাকে কাফন করা হয়েছে এসে জানাযার নামায পড়ান৷ আমিও জাফর এবং শিয়া মাযহাবের অন্যান্যদের সাথে ভিতরে গিয়ে দেখলাম যে, ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-কে কাফন পরিয়ে তাবুতে রাখা হয়েছে৷ জাফর নামায পড়ানোর জন্য সামনে গিয়ে তকবির দিতে গেল তখন গৌরবর্ণের একটি শিশু বেরিয়ে এসে জাফরের জামা টেনে ধরে বললেন: হে চাচা সরে দাড়ান আমার পিতার জানাযার নামায পড়ানোর দায়িত্ব আমার উপর ন্যাস্ত হয়েছে৷ জাফরের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং সে পিছনে সরে আসল৷ ছোট্ট শিশু সামনে গিয়ে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর জানাযার নামায পড়ালেন৷ অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: চিঠির উত্তরগুলো আমাকে দাও৷ আমি চিঠিগুলো তাঁকে দিলাম৷ আমি মনে মনে বললাম এ দুটি নিদর্শনই তো এই ছোট্ট বালকের ইমাম হওয়ার নিদর্শন৷ থলের ঘটনাটি বাকি রইল৷ জাফরের কাছে গিয়ে দেখি সে আর্তনাদ করছে৷ একজন শিয়া মাযহাবের অনুসারী তাকে প্রশ্ন করল এই বালকটি কে?
জাফর বলল: আল্লাহর শপথ আমি এ ছেলেটিকে কখনোই দেখিনি এবং তাকে চিনিও না৷
আবুল আদইয়ান আরও বলল: আমরা বসে ছিলাম এমতাবস্থায় কোম থেকে কিছু লোক এসে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর সম্পর্কে জানতে চাইল৷ তারা ইমাম (আ.) শহীদ হওয়ার খবর জানতে পেরে বলল: কাকে শোকবার্তা জানাব? জনগণ জাফরের দিকে ইশারা করল৷ তারা জাফরকে সালাম দিয়ে তাকে শোকবার্তা ও মোবারকবাদ জানাল৷ অতঃপর তারা জাফরকে বলল: আমাদের কাছে কিছু চিঠি ও উপঢৌকন আছে৷ বলুন চিঠিগুলো কার? এবং কি পরিমাণ উপঢৌকন আছে?
জাফর রেগে গিয়ে দাড়িয়ে বলল: আমার কাছে গায়েবী সংবাদ জানতে চাও? তখন ভিতর থেকে একজন খাদেম বেরিযে এসে বলল: ওমুক, ওমুকের চিঠি তোমাদের কাছে আছে এবং তাদের নাম ঠিকানা বলল৷ থলের মধ্যে এক হাজার দিনার আছে এবং দশটির চিহ্ন মুছে গেছে৷ তারা চিঠি এবং দিনারগুলোকে তার কাছে দিয়ে বলল: যিনি তোমাকে এগুলো নিতে পাঠিয়েছেন তিনিই হলেন প্রকৃত ইমাম (কামালুদ্দিন, খণ্ড-২, বাব-৪১, হাদীস নং-২৫, পৃ.-২২৩)৷

মন্তব্য

একটি মন্তব্য

* একটি তারকা চিহ্নিত ফিল্ড অবশ্যই মান থাকা আবশ্যক।