ইমাম মাহ্দী (আ:)-এর অদৃশ্যকালে বিশ্ববাসী কিভাবে তার বরকত উপভোগ করবে?

ইমাম মাহ্দী (আ:)-এর অদৃশ্যকালে বিশ্ববাসী কিভাবে তার বরকত উপভোগ করবে?

ইমাম মাহ্দী (আ:)-এর অদৃশ্যকালে বিশ্ববাসী কিভাবে তার

বরকত উপভোগ করবে?

যদিও বা ইমাম মাহ্দী (আ.) উপস্থিত থাকলে মানুষ আরও অনেক বেশি নে’য়ামত ও বরকত উপভোগ করত, তবে এমনটি নয় যে তার অদৃশ্যকালে কোনভাবেই উপকৃত হবে না।

ইমাম (আ.)-এর অদৃশ্যকালেও মানুষ বিভিন্ন প্রকার উপকারসমূহ ভোগ করবে যা রেওয়াতসমূহে এসেছে যেমন:

১- ইমাম (আ.) মানুষের নিরাপত্তা ও অনুগ্রহের মাধ্যম, ইমাম (আ.) মানুষের রক্ষাকারী আর যদি আল্লাহর হুজ্জাত পৃথিবীতে না থাকে তাহলে এই পৃথিবী এবং যা কিছু তার উপর আছে সবকিছুই ধবংস হয়ে যাবে।

ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেছেন: আমরা মুসলমানদের নেতা, হুজ্জাত, মু’মিনদের সর্দার, নেককারিদের পথপ্রদর্শক ও মুসলমানদের কর্তৃতশালী, আমরা পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীরই রক্ষাকারী যেমন নক্ষত্ররাজী আকাশের রক্ষাকারী। আর আমাদেও কারণেই আসমান, জমিনের উপর অবতরণ করেনা।

আমাদের জন্যেই বৃষ্টি (আল্লাহর রহমত) বর্ষিত হয়, এবং জমিন থেকে তার বরকত উচ্ছারীত হয়। যদি আমরা এই মাটির উপর না থাকতাম তাহলে জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুই তলিয়ে যেত।

ইমাম (আ.) আরও বলেন: যে দিন থেকে আল্লাহ তা’য়ালা হযরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করেছে সেদিন থেকে এ পর্যন্ত জমিন আল্লাহর হুজ্জাত ব্যতীত ছিল না, তবে ঐ হুজ্জাত কখনও উপস্থিত ও বিখ্যাত আর কখনও গোপন ও অদৃশ্য, এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এই হুজ্জাত থাকবে। ইমাম না থাকলে সঠিকভাবে আল্লাহ তায়ালার উপাসনা করা হবে না। সুলায়মান বলে জিজ্ঞাসা করলাম, মানুষ কিভাবে অদৃশ্য ইমামের কাছ থেকে লাভবান হবে? বললেন : যেভাবে মেঘের পিছনে থাকা সূর্য থেকে লাভবান হয়। (ইয়ানাবি-উল মুওয়াদ্দাহ, খন্ড: ২, পৃ: ২১৭)

২- মুসলমানদের আশা প্রদানকারী : অদৃশ্য ইমামের প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস মানুষকে ইমামের আবির্ভাব কালে, নির্মল ও ঔজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদি করে। শিয়া সম্প্রদায় জীবন্ত ইমামের উপর বিশ্বাস রাখে এবং সর্বদা তার আবির্ভাবের প্রতিক্ষায় থাকে। যদিও বা তাকে দেখতে পায় না, তবে কখনই নিজেকে ইমাম (আ.)-এর থেকে পৃথক দেখে না। ইমাম (আ.) সর্বদা শিয়াদের পরিস্থতির নিয়ন্ত্রণ করেন, যার কারণে শিয়ারা ইমাম (আ.)-এর দয়া ও অনুগ্রহের প্রতি আশাবাদী হয়ে; একটি বিশ্বব্যাপী কাম্যতায় পৌছানোর জন্য চেষ্টা করে এবং তার প্রতিক্ষায় জীবন যাপন করে।

৩- আল্লাহর দ্বীন ও ইসলাম রক্ষাকারী : ইমামের অদৃশ্যকালের আর একটি উপকার হচ্ছে যে ইমামের প্রেমিকরা ও সৈনিকরা তার আবির্ভাবকালের দ্বীন রক্ষার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করে।

ইমাম আলী (আ.) এই বিষয়ে বলেন : কিছু সংখক মানুষ দ্বীনকে রক্ষা ও ফিতনাগুলিকে ধবংস করার জন্য প্রস্তুতি নেয়, যেমনভাবে কামার তলোয়ার অথবা তীরের ফলা ধার দেয়। তাদের চোখ কোরআনের আলোতে আলোকিত, তাদের কানে কোরআনের তফসির ও আয়াতগুলির অর্থ বলা হয়, তারা সর্বদা (রাত ও দিনে) আল্লাহর অধিবিদ্যা ও ধর্মতত্ত্বের পাত্র থেকে পানি পান করে তৃপ্ত হয়। (নাহজুল বালাগা, ছুবহি ছালেহ, খুৎবা : ১৫)

ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর অদৃশ্যকালে শিয়াদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ কি?

মাসুমিনদের (আ.) হাদীসসমুহের উপর দৃষ্টি রেখে, ইমাম (আ.)-এর অদৃশ্যকালে শিয়াদের জন্য যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে যার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল:



১- অন্-র্দৃষ্টি ও জ্ঞান: শিয়াদের কর্তব্যগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে, ইমাম (আ.)-কে সঠিকভাবে চেনা, তার গুন, শিষ্টাচার, বৈশিষ্ট্যগুলি ও তার আবির্ভাবের লক্ষনগুলি জানা, কেননা ইমাম (আ.) ওয়াজিবুল এতায়াত অর্থাৎ তাকে মান্য করা আবশ্যক। অতএব তার গুন ও বৈশিষ্টগুলি জানা প্রয়োজন যাতে করে অন্য কেউ যদি এই পদের মিথ্যা দাবিও করে তবে যেন ইমাম (আ.)-কে চিনতে ভুল না করে। সুতারং ইমাম (আ.)-কে সঠিকভাবে চেনা ও জানা জরুরী এবং প্রয়োজন।

২- সদকা ও দান করা ইমাম (আ.)-এর পক্ষ থেকে: এ কাজটি ইমাম (আ.)-এর ও তার আধিপত্যের প্রতি ভালবাসা এবং আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়।

সাইয়্যেদ ইবনে তা’উস তার নিজ গ্রন্থ কাশফুল মুহাজ্জাহ তে তার পুত্রকে এইরুপ আদেশ দেন: ...নিজের পক্ষ থেকে সদকা দেবার আগে ইমাম (আ.)-এর পক্ষ থেকে সদকা দেবে ও ইমাম (আ.)-এর জন্য দোয়া করতে অগ্রবর্তী হবে এর কারণে ইমাম (আ.) তোমার প্রতি সুনজর ও অনুগ্রহ করবে।

৩- সমাজ সংশোধন, ন্যায় কাজে উপদেশ দেওয়া ও অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা: শিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হচ্ছে নিজ সমাজকে সংশোধন করা, অবশ্যই বলতে হবে যে ইমাম (আ.)-এর অদৃশ্যকালে তিনি নিজেই এ কাজে সবার শির্ষে, তাহলে কিভাবে সম্ভব যে সমাজ ইমাম (আ.)-এর আবির্ভাবের অপেক্ষায় থাকে ও ইমাম (আ.)-এর সন্তুষ্টির প্রতি চেয়ে থাকে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইমাম (আ.)-কে অনুকরণ করবে না (কখনই তা সম্ভব নয়)।

৪- নিজেকে শোধন ও পরিশুদ্ধ করা: ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: যদি কেউ ইমাম (আ.)-এর সাহাবা হতে চাই তাহলে অবশ্যই প্রতীক্ষাকারী হতে হবে, এবং এ অবস্থাতে যদি মারা যায় ও ইমাম (আ.) আবির্ভাব করে তাহলে তার পুরষ্কার ঠিক তারই সমান যে ইমাম (আ.)-কে উপলব্ধি করেছে।

৫- ঈমান রক্ষার জন্য দোয়া: ইমাম (আ.)-এর অদৃশ্যকালে বিভিন্নরকম বিপদ মানুষের মনকে হুমকি দেয় যার কারণে এ সমস্ত বিপদ ও হুমকির থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য কঠিন চেষ্টা এবং তার সাথে সাথে আল্লাহর সাহায্যে চেয়ে দোয়া করতে হবে।

৬- ইমাম (আ.)-এর নাম শোনা মাত্রই তার সম্মানে উঠে দাড়ানো।

৭- ইমাম (আ.)-এর জন্য দোয়া করা শিয়াদের আরেকটি কর্তব্য।

৮- ইমাম (আ.)-এর বিরহতে ব্যথিত থাকা শিয়াদের আরেকটি কর্তব্য।

৯- ইমাম (আ.)-এর আবির্ভাবের অপেক্ষায় থাকা আরেকটি কর্তব্য।

১০- ইমাম (আ.)-এর পক্ষ থেকে হজ্বে যাওয়া আর একটি কর্তব্য শিয়াদের জন্য।

মন্তব্য

একটি মন্তব্য

* একটি তারকা চিহ্নিত ফিল্ড অবশ্যই মান থাকা আবশ্যক।